হযরত ইব্রাহিম বিন আদহাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর জীবনকাহিনী মানবজাতির জন্য এক অমর প্রেরণার উৎস। যে ব্যক্তি একদিন বিশাল রাজ্যের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন, অফুরন্ত ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও শান-শওকতের মাঝে বাস করতেন—তিনিই সেই সবকিছু ত্যাগ করে দুনিয়ার মোহ ছেড়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন। “রাজ সিংহাসন ছেড়ে জগৎ বিখ্যাত ওলী” —এই বইয়ের নামটিই তার জীবনের সারাংশকে সুন্দরভাবে ধরে রেখেছে।
বলখের (বর্তমান আফগানিস্তানের একটি প্রাচীন নগরী) রাজপুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করে তিনি যৌবনে রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। কিন্তু আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও হেদায়েতে তাঁর অন্তরে দুনিয়ার প্রতি এক গভীর বিরাগ জন্ম নেয়। এক রাতে অদৃশ্য আওয়াজ বা খিযির (আ.)-এর মাধ্যমে আসা সাবধানবাণী—“এখনো ঘুমাচ্ছো? জাগো! এই প্রাসাদ, এই সিংহাসন সবই মিথ্যা ও ক্ষণস্থায়ী”—তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই মুহূর্ত থেকে তিনি রাজকীয় জীবন পরিত্যাগ করে যাযাবর দরবেশের জীবন বেছে নেন।
তাঁর এই ত্যাগের পথ ছিল কঠিন, কিন্তু অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তিনি শাম, ইরাক, হিজাজসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেন, কঠোর রিয়াজত-মুজাহাদা করেন, হালাল রিযিকের জন্য পরিশ্রম করেন এবং মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেন। তাঁর জীবন থেকে আমরা শিখি—
দুনিয়ার সৌন্দর্য ও ক্ষমতা কত তুচ্ছ হতে পারে যখন আল্লাহর ভালোবাসা অন্তরে জাগ্রত হয়
প্রকৃত রাজত্ব হলো আত্মার উপর নিয়ন্ত্রণ ও আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক
ত্যাগের মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে এবং জগতে অমর হয়ে থাকে
লেখক মাওলানা মুহম্মদ গোলাম হাসান-এর এই গ্রন্থটি হযরত ইব্রাহিম বিন আদহাম (রহ.)-এর জীবনের বিভিন্ন ঘটনা, কারামত, উপদেশ ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে সহজবোধ্য ভাষায় উপস্থাপন করেছে। এটি পাঠকের অন্তরে তাকওয়া, জুহদ ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার আলো জ্বালিয়ে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।
আশা করি, এই বই পড়ে পাঠকবৃন্দ নিজেদের জীবনে দুনিয়ার মোহ কমিয়ে আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণে আরও একধাপ এগিয়ে যাবেন। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে হযরত ইব্রাহিম বিন আদহাম (রহ.)-এর মতো ত্যাগী ও আল্লাহপ্রেমিক হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।