ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (রহ.)-এর “নূরুচ্ছুদুর ফি শারহিল কুবুর” একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও জনপ্রিয় কিতাব, যা মৃত্যু, কবরের অবস্থা, বরযখের জীবন এবং মৃত ব্যক্তির অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে।
যিনি মৃত্যুকে সত্য করে দিয়েছেন এবং কবরকে প্রথম মঞ্জিল বানিয়েছেন, সেই মহান আল্লাহর অশেষ প্রশংসা। তিনি আমাদেরকে এই দুনিয়ার ঘর থেকে আখিরাতের ঘরে স্থানান্তরিত করার জন্য যে পথ নির্ধারণ করেছেন, তা অত্যন্ত ভয়াবহ ও আশ্চর্যজনক—আবার একই সঙ্গে মুমিনের জন্য অফুরন্ত রহমত ও নূরের দরজা।
ইমাম জালালুদ্দীন আব্দুর রহমান আস-সুয়ূতী (রহ.), যিনি হাদীস, ফিকহ, তাফসীর, ইতিহাস ও তাসাউফের ময়দানে অসংখ্য অমূল্য গ্রন্থ রচনা করে গেছেন, তাঁর এই কিতাব মানুষের অন্তরকে প্রশান্তি দানের জন্যই যেন লিখিত হয়েছে। এই গ্রন্থে তিনি কুরআনের আয়াত, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সহীহ ও অন্যান্য হাদীস, সাহাবা ও তাবেয়ীদের বর্ণনা এবং পরবর্তী আইম্মাদের কথা একত্র করে বর্ণনা করেছেন—যাতে মৃত্যুর ভয়াবহতা, কবরের চাপ, নূরের প্রসার, মুনকার-নাকীরের প্রশ্ন, বরযখের জীবন, কবর জিয়ারতের ফযীলত, মৃতের জন্য দোয়া ও সদকার উপকারিতা—সবকিছু বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।
এই কিতাব পড়লে মানুষের অন্তরে দুনিয়ার প্রতি মোহ কমে, আখিরাতের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। কবরের অন্ধকার যেন নূরে রূপান্তরিত হয়, ভয় যেন আশায় পরিণত হয়। ইমাম সুয়ূতী (রহ.) এখানে শুধু তথ্যই দেননি, বরং মুমিন বান্দাকে আল্লাহর রহমতের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং মৃত্যুকে একটি সুন্দর সাক্ষাতের মতো করে উপস্থাপন করেছেন।
বিশেষ করে বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য এই কিতাবের অনুবাদ একটি বড় নেয়ামত। কারণ মৃত্যু ও কবরের আলোচনা এমন বিষয় যা প্রত্যেক মুসলিমের জীবনে প্রতিদিনের চিন্তা হওয়া উচিত—যাতে আমরা দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে কবরের আযাব থেকে হেফাযত করুন, কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন এবং ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর এই কিতাব পড়ে আমাদের অন্তরকে নূরে ভরে দিন। আমীন।